NOWPALA DESHBANDHU YOUNG ASSOCIATION
BAGNAN, Howrah
নাউপালা দেশবন্ধু ইয়ং এ্যাসোসিয়েসন আয়োজিত দুর্গোৎসবে সম্পূর্ণ সাবেকিয়ানায় মায়ের আরাধনা করা। বিশেষ করে দেবীর ভোগ রান্নার ক্ষেত্রে আমাদের রীতিনীতি উল্লেখযোগ্য। ভোগের ক্ষেত্রে আমাদের প্রধান গুরুত্ব পবিত্রতা। সংগঠনের এক সদস্য প্রতিবছর মনে করিয়ে দেন, “ভোগ হলো দেবীর উদ্দেশ্যে ভক্তিভরে নিবেদিত পবিত্র খাদ্য। ভোগের দায়িত্বে থাকা ব্রাহ্মণ ও গুরুদীক্ষিত অ-ব্রাহ্মণ সদস্যরা অভুক্ত অবস্থায় স্নান করে শুদ্ধ সুতির বস্ত্র পরে রান্নার আয়োজন করেন। ভোগের পিতল-কাঁসার পাত্র ও উপকরণ পরিষ্কার করা হয়। প্রতিবছর নতুন মাটির উনুন গোবরজল দিয়ে শুদ্ধ করে গঙ্গাজল ছিটিয়ে পবিত্র করা হয়। রান্নার আগে রাঁধুনিরা মাথা, নাক ও মুখ গামছায় ঢেকে মৌনব্রত পালন করেন। এরপর শুরু হয় নিরামিষ ভোগ রান্না—খিচুড়ি, পাঁচ রকম ভাজা, লাবড়া, চাটনি ও পরমান্ন। মহানবমীতে থাকে অন্নভোগ ও মাছ। সন্ধ্যায় তৈরি হয় লুচি ও তিন রকম ভাজা।
রান্না শেষে সম্পূর্ণ শুদ্ধ মাটির পাত্রে পরিচ্ছন্ন কলাপাতায় দেবীকে ভোগ নিবেদন করা হয়। ঢাকের বাদ্যির সাথে নতুন কাপড়ে দেবীকে আড়াল করে ভোগ নিবেদনের মন্ত্র উচ্চারণ করে 'গুপ্তসেবা' দেন পুরোহিত। সবশেষে, উপস্থিত দর্শণার্থীদের শালপাতার বাটি ও তালপাতার চামচে ভোগ বিতরণের পর সংগঠনের সদস্য/সদস্যা দের ভোগ খাওয়ার মধ্য দিয়ে দেবীর ভোগ পর্বের সমাপন ঘটে।