Prathama
Neradul, Paschim Medinipur
ঢাকের শব্দে যখন পাড়ার আকাশ উৎসবের রঙে ভরে ওঠে, তখন রান্নাঘর থেকে ভেসে আসে এক অন্যরকম সুবাস—গরম খিচুড়ি, লাবড়া আর পায়েসের গন্ধ। এ যেন পুজোর ভোগের চিরচেনা গল্প, যেখানে এক হাঁড়ি খিচুড়ি, একদল ব্যস্ত মানুষ আর হাজারটা হাসি মিলেমিশে তৈরি করে উৎসবের এক অনন্য ছবি।
ভোরের আলো তখনও পুরোপুরি ফোটেনি। পুজোমণ্ডপের চারপাশে নীরবতা, অথচ রান্নাঘরে হাঁড়ি-পাতিলের শব্দ আর মানুষের ব্যস্ততা। বড় বড় হাঁড়িতে ফুটতে শুরু করে খিচুড়ি, রান্না হয় সুস্বাদু লাবড়া। চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে ভোগের মনমাতানো সুবাস। প্রতিবারের মতো এবারও এই আয়োজন যেন নতুন করে একটি গল্প লেখে।
এই গল্পের নেপথ্যে থাকেন অসংখ্য সাধারণ মানুষ। কেউ বাজার করেন, কেউ ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে রান্না করেন, আবার কেউ ভালোবাসা দিয়ে প্রসাদ পরিবেশন করেন। দুপুরে কলাপাতায় গরম খিচুড়ি, লাবড়া, চাটনি ও পায়েস পরিবেশিত হলে ধনী-দরিদ্রের সব ভেদাভেদ মুছে যায়। সবার মধ্যে থেকে যায় একসঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার অনুভূতি।
যেখানে অন্ন ভাগ হয়, সেখানে শুধু পেট ভরে না, মানুষের মনও কাছাকাছি আসে।
শেষ পর্যন্ত যখন হাঁড়িগুলো খালি হয়ে যায়, তখন বোঝা যায়—ভোগের আসল গল্প খাবারের নয়, মানুষের। রান্না করা, পরিবেশন করা আর প্রসাদ গ্রহণ করা প্রতিটি হাত যেন একই বন্ধনে বাঁধা। পুজোর ভোগ তাই শুধু দেবীর প্রসাদ নয়; এটি ভালোবাসা, সহযোগিতা ও সম্প্রীতির এক পরম উৎসব। আর এই উৎসবের সবচেয়ে বড় পরিচয়—এখানে প্রত্যেক সাধারণ মানুষই গল্পের এক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র।