Novbikash Club Puja Committee
Burnpur, Paschim Bardhaman
দুর্গাপূজায় নারীশক্তির আরাধনা বঙ্গসংস্কৃতির এক উজ্জ্বল অধ্যায়। পূজার প্রচলন নিয়ে মতভেদ থাকলেও কথিত আছে, ১৭৯০ সালে হুগলির গুপ্তিপাড়ায় বারোজন ব্রাহ্মণ যুবক যৌথভাবে দুর্গাপূজা করেন। বারোজন ইয়ার বা বন্ধুর সেই পূজা ‘বারোয়ারি’ নামে পরিচিত হয়, পরে সার্বজনীন রূপ পায়। আমরা বারোজন নই, প্রায় ষাটজন বন্ধু মিলে ২০১০ সালে দুর্গাপূজা শুরু করি। উদ্যোগ আমাদের, অংশগ্রহণ সকলের। বাড়ি বাড়ি চাঁদা চাইতে যাই না; প্রথমে পরিবারের প্রত্যেককে ভোগের কুপন দিই। পরে ক্লাব প্রাঙ্গণে চেয়ার-টেবিল পেতে রসিদ বই নিয়ে বসি। এই ব্যবস্থায় প্রত্যাশার চেয়েও বেশি অর্থ সংগ্রহ হয়—আমরা অভিভূত। কোভিডকালে এলাকার দুস্থ পরিবারের শিশুদের পুষ্টিকর খাবার জোগাতে ‘অন্নপাত্র’ চালু করি। আজও প্রতি মাসে বেশ কয়েকদিন এই ব্যবস্থা চলে। গত পূজার পর থেকে এ পর্যন্ত ৬৪ দিন অন্নপাত্রের আয়োজনে উপস্থিত ছিল ৫০ থেকে ১৫০ জন শিশু। কৃতিত্ব এলাকার সহযোগী মানুষদেরও। বিশেষভাবে সক্ষম বন্ধুদের আবাসন বার্নপুর চেশায়ার হোম ও ঢাকেশ্বরী বৃদ্ধাশ্রমের আবাসিকদের মহানবমীতে পূজা প্রাঙ্গণে নিয়ে আসি। আসেন পাড়ার মানুষ ও শিশুরাও। প্রায় ২০০০ মানুষের কলতানে মুখরিত হয় প্রাঙ্গণ। সকলের পরিশ্রমে পূর্ণতা পায় আয়োজন; সেই শ্রমের চেয়েও অনেক বেশি আমাদের পরিতৃপ্তি ও আনন্দ।