Kamol Memorial Club
Kmc More, Uttar Dinajpur
সপ্তমী থেকে নবমী—পূজার প্রতিটি শুভ তিথিতেই পরম ভক্তি ভরে দেবী দুর্গাকে মহাভোগ নিবেদন করা হয়। আমাদের আবাসনের শ্রদ্ধেয় গৃহিণীরা সম্পূর্ণ শুদ্ধতা ও নিষ্ঠার সাথে এই প্রসাদ প্রস্তুত করার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন। তিথিভেদে ভোগ নিবেদনের নির্দিষ্ট সময় পরিবর্তিত হলেও, শাস্ত্রীয় নিয়ম ও সময়সীমা বজায় রেখে প্রতিবারই যথা সময়ে মায়ের চরণে ভোগ অর্পণ করা হয়।
সপ্তমী ও অষ্টমীতে পরিবেশন করা হয় সুস্বাদু খিচুড়ি, নানা পদের ভাজা, তরকারি ও ক্ষীর-পায়েস। মায়ের চরণে ঠাঁই পায় ঘিয়ে ভাজা সুগন্ধি পোলাও ও পায়েস। তবে এই পূজার মূল আকর্ষণ লুকিয়ে থাকে মহানবমীর বিশেষ রাজকীয় ভোগে। সে দিন খিচুড়ির পাশাপাশি নিবেদিত হয় অন্নভোগ, সাথে অড়হর ডাল, পঞ্চব্যঞ্জন, চাটনি, পায়েস, মিষ্টি দই এবং রসগোল্লা।
পূজার সূচনালগ্ন থেকেই আবাসনের মাতৃস্থানীয় মহিলাদের হাত ধরে এই ঐতিহ্যবাহী অন্নভোগের যাত্রা শুরু। তাঁরা নিজেরাই গৃহ থেকে রান্নার সমস্ত উপকরণ নিয়ে এসে আনন্দে মেতে উঠতেন পরম মমতার এই রন্ধনযজ্ঞে। আর পূজা পরিচালনায় ব্যস্ত তরুণ-তরুণীদের ভালোবাসার সাথে খাইয়ে দিতেন দই-মিষ্টির মিষ্টি প্রসাদ।
পূজামণ্ডপ থেকে ভক্ত ও পুণ্যার্থীদের মাঝে ভোগ বিতরণের পাশাপাশি, উৎসবের আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে কখনো কখনো আবাসনের প্রতিটি ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া হয় এই পবিত্র প্রসাদ। স্বাদে, ভক্তিতে ও আন্তরিকতায় মোড়ানো এই ভোগপর্বই আমাদের আবাসনের দুর্গোৎসবের মূল প্রাণ—যা আমাদের প্রীতি, ঐতিহ্য ও সম্প্রীতির বন্ধনকে প্রতি বছর করে তোলে আরও অটুট।