Nungi Moyrapar Mangaldeep Club
Batanagar, South 24 Parganas
পুজোর কটা দিন আমাদের গ্রামের মণ্ডপ জুড়ে যেন এক অদৃশ্য মমতার সুর বাজে। পাড়ার মা, বোন, দিদি আর জেঠিমারা ঘরের সব কাজ ফেলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পরম আদরে রান্নাঘরের দায়িত্ব তুলে নেন। মহাষ্টমীর দিন মায়ের চরণে ঠাঁই পায় ধোঁয়া ওঠা গরম ফুলকো লুচি, সাথে মুচমুচে আলুভাজা, পটলভাজা, উচ্ছে ভাজাসহ নানা পদের ভাজা আর পঞ্চব্যঞ্জনের তরকারি। পুষ্পাঞ্জলি শেষে সমবেত ভক্তদের হাতে পরম আদরে ও সযত্নে তুলে দেওয়া হয় সেই পবিত্র প্রসাদের প্যাকেট।
মহানবমীতে এই উদযাপনের ক্যানভাস আরও বর্ণময় ও পরিব্যপ্ত হয়ে ওঠে। পুরো গ্রাম এক হয়ে মেতে ওঠে দেবীর মহাস্পর্শে প্রস্তুত বিশেষ খিচুড়ি ভোগ রান্নায়। নিজের গ্রামের মানুষ তো বটেই, আশপাশের গ্রামের প্রতিটি পরিবারকেও ভালোবাসার আকুল নিমন্ত্রণ জানানো হয়। তারপর সবাই মিলে মণ্ডপ প্রাঙ্গণে একই পংক্তিতে বসে কিংবা ঘরে ঘরে পরম আন্তরিকতার সাথে পরিবেশন করা হয় এই পবিত্র খিচুড়ি প্রসাদ।
এই ভোগ রান্না আর প্রসাদ বিতরণ কেবল পেট ভরানোর কোনো আয়োজন নয়—এ আমাদের গ্রামের ঐক্য, আন্তরিকতা আর ভালোবাসার এক অকৃত্রিম মিলনমেলা। কাঠের উনুনের আঁচ, সুগন্ধি মশলার সুবাস আর একসাথে মিলেমিশে কাজ করার ক্লান্তিহীন হাসি—এই সবকিছু মিলেই পুজোর দিনগুলোকে সত্যি সত্যি প্রাণবন্ত করে তোলে। মায়ের প্রসাদকে কেন্দ্র করে যুগের পর যুগ ধরে এভাবেই সব বয়সের মানুষ পাশাপাশি এসে দাঁড়ায়; ভাগ করে নেয় কাজ, আনন্দ আর দেবী দুর্গার অক্ষয় আশীর্বাদ।