Harganda Sarbojanin Durgotsav
Silda, Jhargram
শিউলি ফুলের মিষ্টি সুবাসমাখা বাতাসে আগমনীর সুর বেজে উঠেছে—ধরা ধামে ধূপ-ধুনোর গন্ধে ছড়িয়ে পড়েছে আনন্দময়ী মা উমার আগমনবার্তা। বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপূজা শুধু একটি পার্বণ নয়; এ হলো ধনী-দরিদ্র, উঁচু-নিচুর ভেদাভেদ ভুলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ভালোবাসায় বেঁচে থাকার এক অনন্য মহোৎসব। বোধন থেকে বিসর্জন—আলোর অলৌকিক রোশনাই, ঢাকের মন মাতানো আওয়াজ আর ধুনুচি নাচের তালে মেতে ওঠার এই তো পরম শুভক্ষণ।
মায়ের অপরূপ প্রতিমার সামনে এসে যখন হাত জোড় করে সবাই এক জায়গায় দাঁড়ায়, তখন সব বৈষম্য নিমেষে মিলিয়ে যায়। নামী ক্লাবের থিম পূজার জাঁকজমক হোক কিংবা আমাদের চেনা পাড়ার আবেগঘন প্যান্ডেল—মা ও মা দুর্গার পূজা সবার জন্য উন্মুক্ত। দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়, ফুচকার স্টলে দীর্ঘ লাইন, রাত জেগে প্যান্ডেল হপিং আর আলোর মায়াবী ঝলকানি—এই সব কিছু মিলেই তো দুর্গোৎসব লাভ করে তার পূর্ণ সার্থকতা।
মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরে ঠাকুর দেখার পর মন ও প্রাণ জুড়িয়ে যায় দেবীর মহাভোগের প্রসাদে। অঞ্জলি শেষে লাইনে দাঁড়িয়ে পাতা পেড়ে ধোঁয়া ওঠা গরম খিচুড়ি, সুস্বাদু লাবড়া আর ক্ষীর-পায়েসের তৃপ্তিই আলাদা—যা অন্যকে খাইয়ে আরও কয়েক গুণ বেড়ে যায়। এবারের পুজোয় আমাদের বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে সনাতনী খিচুড়ি ভোগের পাশাপাশি থাকছে গরম গরম লুচি, শাহী কাশ্মীরি আলুর দম ও সুগন্ধি ফ্রাইড রাইস। ভালোবাসার এই রাজকীয় প্রসাদ আয়োজনে আপনাদের সবার স্ববান্ধব উপস্থিতি আমরা সানন্দে ও একান্তভাবে কামনা করি।
অবশেষে আমাদের সবাইকে আনন্দের জোয়ারে ভাসিয়ে, চোখে জল আর আগামী বছরের পরম আশ্বাস রেখে মা ফিরে যান তাঁর কৈলাস ধামে...।