Debanandapur United Club
Debanandapur, Birbhum
ষষ্ঠীর শুভ বোধনের মধ্য দিয়েই সূচনা ঘটে আমাদের বহু প্রতীক্ষিত এই শারদোৎসবের। দূর-দূরান্তে থাকা প্রিয়জনেরা এই সময়ে ঘরের টানে ফিরে আসেন আপন
সপ্তমীর ভোরে কলাবউ স্নান ও বিশেষ পূজার মধ্য দিয়ে মাতৃআরাধনা পায় এক নতুন গতি। এ দিন সকাল থেকেই মণ্ডপ জুড়ে শুরু হয়ে যায় ভোগের তোড়জোড়। কেউ সবজি কাটায় ব্যস্ত, কেউ বা রান্নার তদারকিতে—এই কাজের ব্যস্ততার মাঝেই যেন লুকিয়ে থাকে পরম আপনত্বের সুখ।
মহাষ্টমীর পুণ্য তিথিতে নতুন পোশাকে সেজে সবাই মিলে হাতে ফুল নিয়ে মায়ের চরণে দেওয়া হয় অঞ্জলি, চাওয়া হয় সবার সুখ-সমৃদ্ধি। এ দিনের মহাপ্রসাদে থাকে বিশেষ আয়োজন—ধোঁয়া ওঠা ফ্রাইড রাইস, সুস্বাদু মটর পনির, মচমচে বেগুনি, কুমড়ো-আলু-পটল ভাজা, পঞ্চব্যঞ্জনের মিশ্র সবজি, পায়েস, দই আর রকমারি মিষ্টি। সবাই মিলে এক পংক্তিতে বসে প্রসাদ গ্রহণের মাঝেই লুকিয়ে থাকে উৎসবের প্রকৃত সার্থকতা।
নবমীর বিশেষ পূজার পর ধোঁয়া ওঠা গরম খিচুড়ি প্রসাদে আপ্যায়িত হন পরিবারের সদস্য থেকে শুরু করে পাড়া-প্রতিবেশী ও আগত সকল অতিথি। তবে এই নবমীর আলোর রোশনাই ও ঢাক-শঙ্খের গমগমে আওয়াজের মাঝেই অলক্ষ্যে ঘনিয়ে আসে বিদায়ের এক সূক্ষ্ম করুণ সুর।
দশমীর শুভলগ্নে দেবী দুর্গাকে সিঁদুর বরণ করে, একে অপরকে আবিরে রাঙিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয় শারদ শুভেচ্ছা। চোখাশ্রু আর মুখে হাসি নিয়ে হৃদয়ের গভীর থেকে ধ্বনিত হয় একটাই আকুল প্রার্থনা—“মা, আবার এসো, আমাদের ঘর আলো করে।”