Dopukuria Majhpara Barowari Durga Pujo Committee
Shaktipur, Murshidabad
শ্রীশ্রী দুর্গাপূজার ভোগ ঐতিহ্য।
এই বছর ২০২৬ (বাংলা ১৪৩৩)-এ শ্রীশ্রী দুর্গাপূজার ২৩৫তম বছর। ১৮১৬ সালে শুরু হওয়া এই পুজোর প্রথম দিকের আয়োজন ছিল মাটির ঘর ও উলুখড়-কাশের ছাউনিতে। আলো বলতে ছিল গঙ্গামাটির তৈরি রেড়ির তেলের প্রদীপ।
সীমাহীন দারিদ্র, ব্রিটিশের অত্যাচার ও নানা সংকটের সময় শাকম্ভরী দুর্গা ছিলেন দুর্গতিনাশিনী, অসুরদলনী—সব অত্যাচার থেকে মুক্তির প্রতীক। সামর্থ্য কম থাকলেও মানুষের ভক্তি, শ্রদ্ধা ও আন্তরিকতার কোনো অভাব ছিল না।
মায়ের ভোগে কোনো আড়ম্বর ছিল না, ছিল না সংখ্যার ধাঁধাও। গ্রামে যা ফলত, তাই মায়ের ভোগে নিবেদন করা হতো। ভোগে থাকত মোটা চালের অন্ন, ৫–৬ রকমের ভাজা, পাঁচমিশালি তরকারি ও টক (অম্বল), সঙ্গে নারকেলের নাড়ু। মহাষ্টমীতে অন্নভোগের পরিবর্তে গাওয়া ঘিয়ে ভাজা লুচি নিবেদন করা হতো। দেবীর আরতিও হতো পাঁকের সলতে দিয়ে। আরতির সময় ভক্তদের আবেগ ও উচ্ছ্বাসে মণ্ডপ হয়ে উঠত প্রাণবন্ত।
আজ ২০২৬-এ সবকিছুই যেন বাঁধনছাড়া। সংকটকালের এই দুর্গোৎসবে সেদিনের বাহ্যিক রূপ নেই, এমনকি অন্তরের ঐতিহ্যও অনেকটাই বদলে গেছে। আনুষ্ঠানিকতা ও নেশাদ্রব্যের প্রাবল্যে আমাদের চিরন্তন রীতি-ঐতিহ্যে যেন ‘সব আছে, অথচ কিছুই নেই’।
তবুও মায়ের ভোগের জৌলুস বেড়েছে। প্রাচীন রীতি মেনে আমিষ ভোগ হয় না। আর এই ভোগের জৌলুস ও বিশুদ্ধতা বজায় রাখতে এবার আমরা এনেছি ‘ঐতিহ্যের মিশ্রণ’।