Nowpukuria Ghosh Para Shib Mondir Durga Puja
Beldanga, Murshidabad
মহাষ্টমীর ভোগ প্রসাদ: ঐতিহ্যে, আয়োজনে, ভালোবাসায়
বাংলা নববর্ষের শুরুতেই হাতে বাংলা ক্যালেন্ডার বা পঞ্জিকা পেলেই দুর্গাপুজোর দিনক্ষণ খুঁজে দেখা—বাঙালির চিরন্তন অভ্যাস। আর দুর্গাপুজোর সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে থাকা ঐতিহ্যের মধ্যে অন্যতম মহাষ্টমীর পুষ্পাঞ্জলি ও ভোগ প্রসাদ গ্রহণ।
দক্ষিণ দমদম পৌরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের বেদিয়াপাড়ার নিজ সিঁথি সর্ব্বজনীন দুর্গোৎসব দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে এ বছর ৭১তম বর্ষে পদার্পণ করেছে। আমাদের পুজোর ভোগ প্রসাদের ঐতিহ্যও ততটাই সমৃদ্ধ। বহু বছর ধরে মহাষ্টমীতে পূজার ডালির সঙ্গে মাটির মালসায় দেওয়া হতো আতপ চাল ও মুগ ডালের খিচুড়ি, আলুর দম, চাটনি ও পায়েস।
প্রায় দুই দশক আগে ভক্তদের বিপুল আগ্রহ দেখে মণ্ডপের পাশে পৃথক প্যান্ডেলে চেয়ার-টেবিল পেতে বসিয়ে ভোগ খাওয়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রথম বছর প্রায় ৬০০ মানুষের আয়োজন দিয়ে শুরু হয়ে সেই সংখ্যা আজ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১২০০-তে। ২০২০ সালের কোভিড পরিস্থিতিতেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে ভোগ বিতরণের ঐতিহ্য বজায় রাখা হয়েছিল।
ভোররাত থেকে রান্না, মায়ের কাছে ভোগ নিবেদন এবং তারপর স্বেচ্ছাসেবকদের তত্ত্বাবধানে বিতরণ—আজও মহাষ্টমীর এই ভোগ প্রসাদ আমাদের পুজোর অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য। সময় বদলেছে, ব্যস্ততা বেড়েছে, তবু এই ঐতিহ্য আজও অমলিন।
মায়ের ভোগে মিলনের আনন্দ
বহুপ্রাচীনকাল থেকেই আনন্দ ও মিলনের শারদীয় উৎসব দুর্গাপুজো। ধর্ম, জাতি, ধনী-দরিদ্রের বিভেদ ভুলে সকলের অংশগ্রহণেই এই উৎসব হয়ে ওঠে সর্বজনীন। আর এই মিলনের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু মায়ের প্রসাদী ভোগ।
সেই ঐতিহ্যই বহু বছর ধরে ধরে রেখেছে নওপুকুরিয়া ঘোষপাড়া শিবমন্দির পূজা কমিটি। মায়ের পাঁচদিনের পুজোয় নানা আয়োজনের মধ্যে অষ্টমীর খিচুড়ি ভোগের রয়েছে এক বিশেষ মাহাত্ম্য। অষ্টমীর সকাল থেকেই পুজোমণ্ডপের রান্নাঘর থেকে ভেসে আসে ঘিয়ে ভাজা গোবিন্দভোগ চাল ও মুগ ডালের খিচুড়ির মনমাতানো গন্ধ। সঙ্গে থাকে পাঁচরকম তরকারি ও সুস্বাদু চাটনি। সেই পরিচিত গন্ধে মুখর হয়ে ওঠে গোটা এলাকা।
অঞ্জলি শেষে গ্রামবাসীরা অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে একসঙ্গে বসে মায়ের ভোগ গ্রহণ করেন। ধনী-দরিদ্র, ছোট-বড় নির্বিশেষে সকলের পাতেই থাকে একই প্রসাদ। তাই এই ভোগ শুধু খাবার নয়, এটি হয়ে ওঠে ভালোবাসা, সম্প্রীতি ও মিলনের এক অনন্য আয়োজন। সকলের মুখে একটাই কথা—মায়ের ভোগের স্বাদ সত্যিই অতুলনীয়।
এই বিশাল আয়োজন সফল করে তুলতে পূজা কমিটির সদস্যদের অক্লান্ত পরিশ্রমের পাশাপাশি গ্রামের মহিলাদের ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর সেই অনন্য স্বাদ ও সুবাসের পেছনে SUNRISE মশলার ও গুরুত্ব অপরিসীম।