Kumarganj Nisha Club
Kumarganj, Dakshin Dinajpur
দুর্গোৎসবের মহাষ্টমী বাঙালির ভক্তি, ঐতিহ্য ও আনন্দের এক অনন্য মহালগ্ন। আশ্বিনের শুক্লপক্ষের এই পুণ্যতিথিতে মাতৃবন্দনার আবেশে উদ্বেল হয়ে ওঠে প্রতিটি বাঙালি হৃদয়। দেবীর শক্তি ও মঙ্গলময় রূপের আরাধনায় চারদিকে জাগে পবিত্র উৎসবের সুর।
মহাষ্টমীর সকাল ঢাকের বাদ্য, মন্ত্রধ্বনি ও ধূপধুনোর সৌরভে স্নিগ্ধ হয়ে ওঠে। ধুতি-পাঞ্জাবি ও লালপাড় সাদা শাড়িসহ ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সেজে ভক্তেরা মণ্ডপে সমবেত হন। পুরোহিতের মন্ত্রোচ্চারণে মায়ের চরণে পুষ্পাঞ্জলি নিবেদন করেন সকলে; ভক্তির নিবিড় আবেশে মুখর হয়ে ওঠে পূজাপ্রাঙ্গণ।
এই দিনের অন্যতম আকর্ষণ কুমারীপূজা। দেবীর নির্মল স্বরূপের প্রতীক হিসেবে এক কুমারী বালিকাকে মাতৃজ্ঞানে পূজা করা হয়। বেলুড় মঠের এই আরাধনা দর্শনে প্রতিবছর অসংখ্য পুণ্যার্থীর সমাগম ঘটে।
অষ্টমীর শেষ চব্বিশ মিনিট ও নবমীর প্রথম চব্বিশ মিনিট মিলিয়ে আটচল্লিশ মিনিটের পুণ্যসন্ধিক্ষণে অনুষ্ঠিত হয় সন্ধিপূজা। দেবীর চামুণ্ডা রূপের আরাধনায় নিবেদিত হয় ১০৮টি পদ্ম; প্রজ্বলিত হয় ১০৮টি প্রদীপ। ঢাক-কাঁসরের উদাত্ত ধ্বনি ও দীপশিখার দ্যুতিতে পূজামণ্ডপ ভরে ওঠে গভীর ভক্তির আবেশে।
দুপুরে মহাপ্রসাদ বিতরণে উৎসব পায় পরিতৃপ্তির মাধুর্য। গরম খিচুড়ি, লাবড়া, বেগুনি, চাটনি, পাঁপড় ও মিষ্টি প্রসাদরূপে যেন অমৃতসম। একসঙ্গে ভোগ গ্রহণের আনন্দে সকলের মনে ছড়িয়ে পড়ে তৃপ্তির উষ্ণতা। ভক্তি ও আনন্দে দিনটি পূর্ণ হলেও সন্ধিপূজার শেষে উৎসব ফুরিয়ে আসার মৃদু বিষাদ মনে উঁকি দেয়। মিলনের উচ্ছ্বাস আর বিদায়ের আভাসে মহাষ্টমী হয়ে থাকে হৃদয়ের এক অমলিন স্মৃতি।