Mahamaya Mahila Durgapuja Committee
Gangarampur, Dakshin Dinajpur
নীল শরতের আকাশে কাশফুলের মতো যখন সাদা মেঘ ভেসে বেড়ায়, তখন ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি আর ভক্তদের উচ্ছ্বাসে গ্রামের পূজামণ্ডপে নামে আগমনীর আনন্দ। মহামায়া মহিলা দুর্গাপূজা কমিটির আয়োজনে মাতৃবন্দনার সঙ্গে জড়িয়ে আছে ভোগ রান্নার আন্তরিকতা; প্রতিটি পদে মিশে আছে ভক্তি, যত্ন ও ভালোবাসার পরশ।
সপ্তমীর সকালে শুরু হয় ভোগের প্রস্তুতি। সুগন্ধি পোলাও, ঘণ্ট ও পনিরের রসার সুবাসে ভরে ওঠে মণ্ডপের চারপাশ। প্রসাদ পাওয়ার প্রতীক্ষায় ভক্তদের মুখে তখন আনন্দের হাসি। রান্নার উষ্ণতা আর উৎসবের আবেশ মিলেমিশে সৃষ্টি করে এক আটপৌড়ে পরিবেশ।
অষ্টমীতে আয়োজন আরও সমৃদ্ধ। ধূমায়িত খিচুড়ি; সুস্বাদু ঘণ্ট সঙ্গে পাঁপড় ও মুচমুচে বেগুন ভাজা। ভোগের আঘ্রাণে পূজাপ্রাঙ্গণ যেন পায় পরিতৃপ্তির আগাম স্পর্শ।
নবমীতে নিবিড় ভক্তিভরে প্রস্তুত হয় সাদা ভাত, পনিরের রসা, ঘণ্ট, ডাল আর পরমান্ন । মায়ের চরণে নিবেদনের পর সকলে একসঙ্গে প্রসাদ গ্রহণ করেন। মিলিত ভোজনে ভালোবাসা ও আনন্দের বন্ধন হয়ে ওঠে আরও মধুর।
দশমীতে দই, চিঁড়ে ও মিষ্টি দিয়ে মাকে শেষ বারের মতো ভোগ নিবেদন করা হয়। তারপর সিঁদুরখেলা। দেবীর কপালে সিঁদুর ছুঁয়ে; পরস্পরকে রাঙিয়ে দেন ভক্তরা। হাসির আড়ালে চোখের কোনে জমা হয় বিদায়ের অশ্রু। ঢাক, শঙ্খ ও উলুধ্বনিতে মুখর বিসর্জনযাত্রা এগিয়ে চলে নদীর দিকে। জলে প্রতিমা বিসর্জনের মুহূর্তে সকলের কণ্ঠের আকুল প্রার্থনা—“মা, আবার এসো। আসছে বছর আবার হবে।”