Madanhasha Durgauttsav Baroyari
Parinagar, Purba Bardhaman
১৩৬২ বঙ্গাব্দে প্রতিষ্ঠিত মদন হাঁসা বারোয়ারির দুর্গোৎসবে মাতৃআরাধনার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে রয়েছে তিথিভিত্তিক ভোগের নিজস্ব ঐতিহ্য। মহাষষ্ঠীর সন্ধ্যায় বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় দেবীবন্দনা। এদিন মাকে নিবেদন করা হয় সম্পূর্ণ সাত্ত্বিক নিরামিষ ভোগ—আতপ চালের নৈবেদ্য, নানা ফল, বাতাসা, মিষ্টি, সন্দেশ ও রসগোল্লা।
মহাসপ্তমী থেকে শুরু হয় অন্নভোগ। গোবিন্দভোগ চাল, সোনামুগ ডাল, ঘি ও গরমমসলার সুবাসে রাঁধা খিচুড়ির সঙ্গে থাকে লাবড়া, পাঁচ-সাত রকমের ভাজা এবং ফলপ্রসাদ। মহাষ্টমীর ভোগ আরও সমৃদ্ধ—খিচুড়ি, ঘিয়ে ভাজা ফুলকো লুচি, পাঁচ সবজির লাবড়া, পাঁচ রকমের ভাজা, চাটনি, পাঁপড়, পায়েস, মিষ্টি, সন্দেশ, নারকেল নাড়ু ও ফল।
মহানবমীতে মায়ের পাতে সাজে পোলাও অথবা লুচি, নিরামিষ তরকারি, লাবড়া বা ছ্যাঁচড়া, ভাজাভুজি, চাটনি, পাঁপড়, পায়েস, মিষ্টি ও ফলপ্রসাদ। কোথাও বলির পর পেঁয়াজ-রসুনবিহীন ‘নিরামিষ মাংস’, আবার কোনো পরিবারে রুই বা ইলিশ ভাজা ও ভাত নিবেদনের রীতিও রয়েছে।
বিজয়া দশমীতে ভারী ভোগের পরিবর্তে বিদায়বরণের দশকর্মা ও নানারকম মিষ্টি নিবেদন করা হয়। সিঁদুরখেলা ও বিসর্জনের পর মিষ্টিমুখ আর বিজয়ার শুভেচ্ছায় পূর্ণতা পায় শারদীয় মাতৃআরাধনা।