Agnibina Durgapuja Comitee
Mankar, Purba Bardhaman
“আজি শঙ্খে শঙ্খে মঙ্গল গাও, জননী এসেছে দ্বারে।”
সারা বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে শরতের পুণ্যলগ্নে শুরু হয় বুদবুদ অগ্নিবীণা ক্লাবের মাতৃবন্দনা। মহাপঞ্চমী থেকেই মণ্ডপসজ্জা, আলোকমালা ও প্রতিমা প্রতিষ্ঠায় উৎসবপ্রাঙ্গণ হয়ে ওঠে প্রাণময়। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুভ উদ্বোধনের পর মহাষষ্ঠীর সন্ধ্যায় ভক্তসমাগমে মুখরিত হয় মণ্ডপ।
মহাসপ্তমী ও মহাষ্টমীর প্রভাত থেকে পুরোহিতের পবিত্র সংস্কৃত মন্ত্রোচ্চারণ চারদিকে ছড়িয়ে দেয় এক নিবিড় আধ্যাত্মিক আবেশ। আমাদের পূজার বিশেষ ঐতিহ্য—প্রতিদিন পরম শুদ্ধতা ও নিষ্ঠায় মাকে ভোগ নিবেদন। খিচুড়ি, ভাজা, তরকারি, চাটনি, লুচি, পায়েস, মালপোয়া, ফলমূল ও মণ্ডা-মিঠাইয়ে সেজে ওঠে নৈবেদ্যের ডালি। সানরাইজ গুঁড়োমশলার স্বাদ-সুবাসে রান্না পায় বিশেষ মাত্রা। পূজান্তে সেই মহাপ্রসাদ সস্নেহে বিতরণ করা হয় অগণিত ভক্তের মধ্যে।
প্রতিমাদর্শন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মহাপ্রসাদ, মেলার কেনাকাটা আর খাওয়াদাওয়ায় কয়েকটি দিন জাতি-ধর্ম-বর্ণের ভেদরেখা মুছে রচিত হয় এক অনুপম মহামিলন। অবশেষে আসে বিষণ্ণ বিজয়া। ভারাক্রান্ত হৃদয়ে মায়ের নিরঞ্জনযাত্রায় অংশ নিয়ে প্রার্থনা করি—আবার এসো মা, আবার ভরিয়ে দিও আমাদের আঙিনা আনন্দ, শান্তি ও মঙ্গলে।