Panrui Dakhinpara Sarbojonin
Kurmun, Purba Bardhaman
আমাদের পাড়ার দুর্গাপূজার আসল প্রাণ যেন লুকিয়ে থাকে নবমীর দুপুরের সেই মিলনমুখর ভোগের পঙ্ক্তিতে। সারা বছর যে পাড়ায় সবাই নিজ নিজ ব্যস্ততায় ছড়িয়ে থাকেন, শারদোৎসবের কয়েকটি দিনে তাঁরাই হয়ে ওঠেন এক বৃহৎ পরিবারের আপনজন।
অষ্টমীর রাত থেকেই মণ্ডপের পিছনে শুরু হয় মহাভোগের প্রস্তুতি। পাড়ার কাকু-জ্যাঠারা ধুতি পরে, কপালে চন্দনের ফোঁটা এঁকে বসে পড়েন বড় বড় কাঠের উনুনের সামনে। বিশাল ডেকচিতে গোবিন্দভোগ চাল ও সোনামুগ ডালের খিচুড়ি ফুটতে থাকে; অন্যদিকে আলু, পটল আর কুমড়োর লাবড়া কষানোর সুবাস ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। ছোটরা আর দাদারা তখন শালপাতা ও জলের গ্লাস গোছাতে মহাব্যস্ত।
নবমীর অঞ্জলি শেষে ঢাকের বাদ্যি একটু স্তিমিত হলেই মণ্ডপের চাতালে শুরু হয় পঙ্ক্তিভোজন। ধোঁয়া-ওঠা খিচুড়ির ঘ্রাণ, ঘিয়ের সুবাস, টমেটো-খেজুরের চাটনি আর মুচমুচে পাঁপড়—সব মিলিয়ে সে যেন অমৃতের আস্বাদ। ধনী-দরিদ্র, চেনা-অচেনার সমস্ত ভেদরেখা মুছে সবাই পাশাপাশি বসে পরম তৃপ্তিতে গ্রহণ করেন মায়ের প্রসাদ।
এই ভোগ শুধু ক্ষুধা মেটায় না, হৃদয়গুলিকেও এক অদৃশ্য সুতোয় বেঁধে দেয়। পুজো ফুরোয়, কিন্তু পাড়াতুতো ভাইবোন, কাকু-কাকিমাদের সঙ্গে কাটানো সেই মুহূর্তগুলি সারা বছর মনের কোণে রয়ে যায় এক অমলিন শারদস্মৃতি।