Ma Mongolchoti Durga Puja
Gushkara, Purba Bardhaman
বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ, আর তার মধ্যে শ্রেষ্ঠ শারদীয়া দুর্গোৎসব। ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত কাঁকুড়িয়া ঝাপানতলা সর্বজনীন দুর্গাপূজা কমিটির সদস্য-সদস্যারা তাই সারা বছর অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন এই কয়েকটি আনন্দময় দিনের জন্য। ষষ্ঠী থেকে বিসর্জন—মাতৃআরাধনা, নানা অনুষ্ঠান আর সকলের সম্মিলিত অংশগ্রহণে পূজাপ্রাঙ্গণ হয়ে ওঠে প্রাণের মিলনমেলা।
এই উৎসবের সবচেয়ে স্মরণীয় অধ্যায় মহাষ্টমী। সকালে ভক্তিভরে মায়ের চরণে পুষ্পাঞ্জলি নিবেদনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় দিন। অষ্টমীতে কমিটির সদস্য-সদস্যাদের কারও বাড়িতেই রান্না হয় না। ফলসহ মুড়ি ও নাড়ু,সন্ধ্যায় মাকে লুচি ও নাড়ু কদমা এবং ফল প্রসাদের দ্বারা সম্পন্ন হয় মায়ের ভোগ | গ্রামবাসী ও আগত সাধারণ মানুষ সকলে মিলেমিশে দিনে ও রাতে একই সঙ্গে বসে মায়ের ভোগপ্রসাদ গ্রহণ করেন। সেই পঙ্ক্তিভোজে মুছে যায় ভেদাভেদ; প্রসাদের স্বাদে মিশে থাকে ভক্তি, সৌহার্দ্য ও একাত্মতার অনাবিল মাধুর্য।
নবমীতে ভাত , কচু কুমড়োর তরকারি ও পাঁঠার মাংসের সাথে নিবেদিত হয় মায়ের মহাপ্রসাদ । সেদিনটি ও আনন্দ-উৎসবে কেটে যায় নিমেষে। তারপরই আসে বিষণ্ণ বিজয়া। মর্ত্যের মায়া কাটিয়ে মা যখন কৈলাসের পথে পা বাড়ান, ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে সকলের হৃদয়। অশ্রুসজল চোখে মাকে বিদায় জানিয়ে আবার ফিরে যেতে হয় নিত্যদিনের কর্মব্যস্ততায়।
তবু বিদায় মানেই তো অপেক্ষার সূচনা। হৃদয়ে জেগে থাকে একটিই আশ্বাস—এক বছর পর মা আবার আসবেন, আবার আনন্দে মুখর হবে আমাদের আপন প্রাঙ্গণ।