Galsi Vivekananda Sangha
Galsi, Purba Bardhaman
গলসী বিবেকানন্দ সংঘের গৌরবময় আয়োজনে ৪৭তম শারদীয়া দুর্গাপূজা নিছক কোনো গতানুগতিক উৎসব নয়, এটি আপামর গলসী গ্রামবাসীর এক অনাবিল প্রাণের আবেগ ও মহামিলনের পবিত্র তীর্থক্ষেত্র। শারদীয়া উৎসবের এই পুণ্য দিনগুলিতে পূজামণ্ডপ পরিণত হয় ভক্তি ও সম্প্রীতির এক অপূর্ব মেলবন্ধনে।
মহাসপ্তমী, মহাষ্টমী ও মহানবমী— মায়ের আরাধনার এই তিনটি দিন দুপুরে মাতৃপ্রতিমার সামনে অত্যন্ত নিষ্ঠাভরে ঐতিহ্যবাহী ভোগ নিবেদন করা হয়। পরম শ্রদ্ধায় মায়ের চরণে অর্পণ করা হয় পঞ্চব্যঞ্জন সহযোগে সুস্বাদু খিচুড়ি ও পায়েস। মাতৃভক্তির সুবাস মেশানো এই অন্নভোগের স্বাদ যেন ভক্তের কাছে অমৃততুল্য। আবার, সন্ধ্যারতি সম্পন্ন হওয়ার পর প্রসাদ হিসেবে সকলের মাঝে বিতরণ করা হয় আটার লুচি এবং লাড্ডু। পুণ্য এই প্রসাদ গ্রহণের জন্য অপেক্ষারত অগণিত মানুষের চোখে-মুখে যে পরম তৃপ্তি ও ভক্তি ফুটে ওঠে, তা সত্যিই ভাষায় প্রকাশ করা অত্যন্ত কঠিন।
এই পুজোর সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য হলো এর সর্বজনীনতা। গলসী গ্রামের প্রতিটি মানুষের কাছে এই উৎসব যেন এক চিরায়ত আত্মীয়তার ডাক। এখানে ধনী-দরিদ্র, উঁচু-নিচুর সব বিভাজন মুছে যায়।। মাতৃময়ী দুর্গার স্নেহচ্ছায়ায় জাতি, ধর্ম ও বর্ণের সমস্ত ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে গ্রামবাসী একসঙ্গে অনাবিল আনন্দে মেতে মণ্ডপের কোলাহল, ধুনুচির ধোঁয়া আর ঢাকের বাদ্যের মাঝে গলসী বিবেকানন্দ সংঘের পুজো হয়ে ওঠে ঐতিহ্য, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের মিলনমেলা। আধুনিকতার মাঝেও এই পুজো শুধু মায়ের আরাধনা নয়, ভেদাভেদহীন সর্বজনীন সমাজের এক সুন্দর উদযাপন।