Baikhuntapur Baroyari Puja Comitee
Digha, Purba Bardhaman
দুর্গাপূজা বাঙালির প্রাণের উৎসব—ভক্তি, আনন্দ, ঐতিহ্য আর মিলনের এক চিরন্তন মহোৎসব। বৈকুণ্ঠপুরেও শরতের আগমনী বার্তা পৌঁছতেই শুরু হয়ে যায় মাতৃবন্দনার প্রস্তুতি। পুজোর কয়েক দিন আগে থেকেই সাজসজ্জার ব্যস্ততায় মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ; মণ্ডপ সেজে ওঠে বর্ণিল আলোয়। ঢাকের বাদ্যি, ধূপ-ধুনোর সুবাস আর উৎসবের উচ্ছ্বাসে বৈকুণ্ঠপুর তখন যেন হয়ে ওঠে এক আনন্দময় মিলনাঙ্গন।
ষষ্ঠী থেকে দশমী—নতুন পোশাকে, হাসিমুখে মণ্ডপমুখী হন অগণিত মানুষ। মহাষ্টমীর সকালে উপবাসী ভক্তদের অঞ্জলি আর মন্ত্রোচ্চারণে সৃষ্টি হয় এক পবিত্র আবহ। মায়ের চরণে নিবেদিত প্রসাদ সকলের মধ্যে বিতরণ করা হয় সস্নেহে। ছোট-বড় সকলেই পরিবার, বন্ধু ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে মণ্ডপে মণ্ডপে আনন্দ ভাগ করে নেন। সন্ধ্যা নামতেই আলোকমালা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ছন্দে উৎসব পায় অন্য এক মাধুর্য।
তারপর আসে বিজয়া দশমী—আনন্দের মাঝে বিষাদের সুর। ঢাকের শেষ বোল আর ভারাক্রান্ত হৃদয়ে মাকে বিদায় জানিয়ে সকলের কণ্ঠে ধ্বনিত হয়—“আসছে বছর আবার হবে।”
বৈকুণ্ঠপুরের দুর্গোৎসব তাই কেবল পূজা নয়; এ আমাদের শিকড়ের টান, সম্মিলিত আনন্দের স্মারক এবং সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও ভালোবাসার এক অটুট বন্ধন।