Sarbojanin Gramin Durga Puja
Pingla, Paschim Medinipur
“ওঁ সর্বমঙ্গলমঙ্গল্যে শিবে সর্বার্থসাধিকে।শরণ্যে ত্র্যম্বকে গৌরি নারায়ণি নমোऽস্তুতে॥”
শরতের পুণ্যলগ্নে কৈলাস ছেড়ে উমা যখন মর্ত্যে আসেন, সনাতনী শাস্ত্রবিধি ও সাত্ত্বিক আচারে শুরু হয় মহামায়ার আরাধনা। ষষ্ঠী থেকে মহাষ্টমী, সন্ধিপূজা পেরিয়ে বিজয়া দশমী—প্রতিটি তিথিতে নানা উপাচার ও স্বতন্ত্র ভোগে মৃন্ময়ী মাতৃমূর্তি যেন ভক্তির আলোয় চিন্ময়ী হয়ে ওঠেন।
ফলমূল, বেলপাতা, ধান-দূর্বা, যব, পঞ্চশস্য, ডাল, মটর, তিল, দুধ-ক্ষীর, মাখন থেকে সন্দেশ, পিঠে-পুলি, লাড্ডু ও লুচি—নৈবেদ্যের ডালি ভরে ওঠে বাংলার চিরায়ত রসনা ও লোকাচারের ঐশ্বর্যে। পেঁয়াজ-রসুনবর্জিত চাল, ডাল ও নানাবিধ সবজিতে শুদ্ধাচারে প্রস্তুত হয় পোলাও ও বিবিধ ব্যঞ্জন; ঘি, মধু ও গঙ্গাজলের পবিত্র স্পর্শে সেই অন্ন হয়ে ওঠে মায়ের মহাভোগ।
এই কয়েকটি দিনে আবালবৃদ্ধবনিতা সকলেই আনন্দোৎসবে মেতে ওঠেন। মহামায়া তখন কেবল আরাধ্যা দেবী নন—তিনি আমাদের ঘরের মেয়ে উমা, অতি আপনজন। তাঁকে ঘিরে মিলেমিশে এক হয়ে যায় ভক্তি, স্নেহ, সংস্কার ও উৎসবের অনন্ত আনন্দধারায়।
জগৎজননীর চরণে আমাদের একান্ত প্রার্থনা—তাঁর করুণাদৃষ্টিতে মুছে যাক সকল ক্ষুধা, ক্লেশ ও অশান্তি; প্রেম, শান্তি ও মঙ্গলে পূর্ণ হোক বিশ্বচরাচর।