Changual Sarbojanin Durgotsab Committee
Nagar, Paschim Medinipur
"হ্যাঁ গো দাদা, আমরা কি সারাজীবন বেচা-কেনা নিয়েই থাকব? আমাদের জীবনে কি আনন্দ-উৎসব বলে কিছু নেই!"
"তা যা বলেছিস ভাই, কিন্তু কী করা যায় বলতো এই একঘেঁয়ে জীবনে একটু মুক্তির স্বাদ পেতে?"
"এক কাজ করলে হয় না, চল না আমরা সব দোকানদাররা মিলে দুর্গাপূজার আয়োজন করি।"
"বা! দারুন আইডিয়া!"
দুই মানুষের সেই সহজ স্বপ্নই একদিন হয়ে উঠল সকলের উৎসব। সাল ১৯৭০। ব্যবসায়ীদের উদ্যোগে গড়ে উঠল দুর্গাপূজা কমিটি; পাশে এসে দাঁড়ালেন এলাকার মানুষ। আনন্দের সেই ছোট্ট প্রদীপ আজ ঐতিহ্যের দীপশিখা।
এ পূজার প্রাণ সাবেকিয়ানায়। থিমের বাহুল্য নয়—এখানে মর্ত্যে আবির্ভূতা সিংহবাহিনী দশভুজা, সঙ্গে লক্ষ্মী-সরস্বতী, কার্তিক-গণেশ; পদতলে মহিষাসুর। শাস্ত্রীয় বিধি, নিষ্ঠা ও ভক্তির আবহে শক্তি, শান্তি, করুণা ও মাতৃমমতার চিরন্তন প্রতিমা হয়ে পূজিতা হন বরাভয়দায়িনী দুর্গা।
মহাষষ্ঠীর বোধনে শুরু হয় শারদ-আরাধনা। ঢাকের বাদ্য, ধূপের সুবাস, পুষ্পাঞ্জলি আর সন্ধ্যারতির আলোয় মণ্ডপ হয়ে ওঠে মিলনতীর্থ। মহাষ্টমীর মহাভোগে শত-সহস্র মানুষের প্রসাদ গ্রহণ যেন নরনারায়ণ সেবারই পুণ্যরূপ।
দশমীতে আসে বিদায়ের বিষণ্ন ক্ষণ—সিঁদুরখেলা, আশীর্বাদ-কামনা, প্রতিমা নিরঞ্জন। বিজয়ার কোলাকুলিতে মিলিয়ে যায় বিষাদের সুর। মা ফিরে যান কৈলাসে, রেখে যান সম্প্রীতির অমল আলো আর আগামী শরতে আবার ফিরে আসার চিরন্তন প্রতিশ্রুতি।