Chata Bazar Sarbojanin Puja Committee
Midnapur, Paschim Medinipur
বিশ্বকবির এই অমিয় বাণীর সার্থক রূপায়ন ঘটে আমাদের ছোটোবাজার সার্বজনীন দুর্গোৎসবে। এটি কোনো জৌলুসের বিজ্ঞাপন নয়, বরং এ হলো এক শতাব্দী প্রাচীন একাত্মতার মহাকাব্য; আর এই উৎসবের সবচেয়ে আবেগঘন অধ্যায়—দেবীর ভোগ। আমাদের পুজোর ভোগ কেবল চাল ও ডালের মিশ্রণ নয়, এ হলো স্মৃতির সুবাস, ঐতিহ্যের উত্তরাধিকার আর ভাঙা মন জোড়া লাগানোর এক অদৃশ্য মন্ত্র।
শরতের ভোরে যখন কাঠকয়লার উনুন জ্বলে ওঠে, তখন ক্লাবের মায়েরা পরম মমতায় ধরেন রান্নার হাল। খাঁটি ঘিয়োর সাথে সানরাইজের খাঁটি গরম মশলা ও সুগন্ধী হিংয়ের ফোড়ন যখন কড়াইতে পড়ে, চারদিক ভরে ওঠে চেনা সৌরভে। মায়ের হাতের পারম্পরিক স্নেহ, নিষ্ঠা আর সানরাইজের ঐতিহ্যবাহী গুঁড়ো মশলার যুগলবন্দীতে ভোগের লাবড়া, খিচুড়ি আর ধোঁয়া ওঠা বাঁধাকপির ঘণ্টর স্বাদ যেন অমৃত।
এই ভোগ রান্নার নেপথ্যে রয়েছে আরও এক অনন্য সামাজিক বন্ধন, ক্লাবের যে তরুণটি সারা বছর আধুনিকতার অনুরাগী, সেও নিষ্ঠাভরে ভোগের আনাজ কাটে। এই ঐতিহ্যের আসল ধারক-বাহক পর্দার আড়ালে থাকা সাধারণ মানুষগুলো; যেমন আমাদের প্রিয় কাঞ্চন দা, যিনি প্রখর রোদ আর আগুনের উত্তাপকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে হাসিমুখে ভোগের বিশাল হাঁড়ি সামলান।
মহানবমীর দুপুরে যখন জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে, ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে হাজারো মানুষ এক পঙক্তিতে বসে সেই প্রসাদ মুখে তোলেন, তখনই উৎসব সার্থকতা পায়। এই অমূল্য মানুষের কোলাহল, আর স্বাদের এই পরম আপ্যায়ন বুক ফুলিয়ে বলতে শেখায়—আমাদের ছোটোবাজারের সার্বজনীন দুর্গাপূজাই আমাদের গর্ব।