Keranichati Sarbojanin Durga Puja
Midnapur, Paschim Medinipur
কেরাণীচটি সার্বজনীন দুর্গাপূজা ৪১তম বর্ষে পদার্পণ করল। শাস্ত্রীয় বিধান ও তিথি মেনে নিষ্ঠাভরে পূজার্চনা সম্পন্ন করাই আমাদের মন্দিরের চিরাচরিত বৈশিষ্ট্য। দুর্গোৎসবের প্রতিটি তিথিতেই দেবীকে ভোগ-নৈবেদ্য নিবেদন করা হয়; তবে মহানবমীর মহাভোগের মাহাত্ম্য স্বতন্ত্র।
সনাতন ধর্মীয় পরম্পরায় মহানবমী অত্যন্ত পবিত্র ও আধ্যাত্মিক তাৎপর্যমণ্ডিত। মহিষাসুরবধের চূড়ান্ত পর্বে এদিন দেবী দুর্গার সিদ্ধিদাত্রী ও চামুণ্ডা রূপের আরাধনা করা হয়। মহিষাসুরমর্দিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ভক্তি নিবেদনের প্রতীকরূপে রীতি অনুসারে ছাপ্পান্ন ভোগসহ রাজকীয় নৈবেদ্য অর্পিত হয়। ঘি-অন্ন, খিচুড়ি, পায়েস, হালুয়া-পুরি, মিষ্টান্ন ও ফলমূল—ভক্তিভরে নিবেদিত এই সাত্ত্বিক ভোগ মন্ত্রোচ্চারণে মহাপ্রসাদে পরিণত হয়। বিধিসম্মত মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে নিবেদিত এই মহাভোগ প্রসাদরূপে গ্রহণের ফলে ভক্তের চিত্তশুদ্ধি হয় এবং আধ্যাত্মিক চেতনা জাগ্রত হয়। এই দিন ভক্তিভরে যে সাত্বিকভোগ অর্থাৎ, ঘি-অন্ন, খিচুড়ি, পায়েস বা হালুয়া-পুরি, নিবেদন করা হয় তাহা মহাপ্রসাদ রূপে গ্ৰহণ করে ভক্তদের জাগতিক ও পারমার্থিক সিদ্ধিলাভ হয়।
পূজান্তে শতাধিক ভক্ত মায়ের প্রসাদ গ্রহণ করেন এবং পরিজনদের জন্যও সযত্নে বাড়িতে নিয়ে যান। সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে এই প্রসাদ বিতরণ সাম্য, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির শাশ্বত বার্তা বহন করে।
সকলকে আহ্বান জানাই, সমবেত কণ্ঠে মায়ের চরণে এই প্রার্থনা নিবেদন করার জন্যে —“মাগো, জ্ঞান দাও, শক্তি দাও, শান্তি দাও, ভক্তি দাও; জগতের মঙ্গল করো।”