Kaktas Sarod Utsav
Kulya, Paschim Medinipur
দুর্গাপুজোর মহানবমী বাঙালির কাছে ভক্তি, আবেগ আর মিলনের এক পরম তিথি। এদিন মায়ের চরণে নিবেদিত হয় খিচুড়ি, লাবড়া, বেগুনি, আলু-পটলের রসা, চাটনি, পায়েস ও পাঁপড়। ভোগের উনুন ঘিরেই যেন পাড়া হয়ে ওঠে এক বৃহৎ পরিবার।
আবালবৃদ্ধবনিতা, ধনী-দরিদ্রের ভেদ ভুলে সকলে একই পঙ্ক্তিতে বসে গ্রহণ করেন মায়ের প্রসাদ। প্রবীণদের হাতে পরিকল্পনা, অর্থসংগ্রহ ও সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা; যুবকেরা সামলান পরিবেশন, আর মহিলাদের স্নেহমাখা তদারকিতে সম্পূর্ণ হয় রান্না। পুজোর ব্যস্ততায় মশলা বাটার দীর্ঘ ঝক্কি থেকেও তাঁদের স্বস্তি দেয় সানরাইজ।
এই আয়োজনে কেউ দেন অর্থ, কেউ চাল-ডাল, কেউ আনাজ কিংবা প্রয়োজনীয় উপকরণ। ভোগশেষে মণ্ডপ ও চারপাশ পরিচ্ছন্ন রাখতেও সকলে মিলিয়ে হাত লাগান। এই সম্মিলিত শ্রমেই উৎসবের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে ঘরে ঘরে, দৃঢ় হয় সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন।
আর নবমীর ভোগের চিরচেনা স্বাদ ও সৌরভ ধরে রাখতে সানরাইজ মশলার রয়েছে বিশেষ ভূমিকা। জিরেগুঁড়ো, ধনেগুঁড়ো আর গরমমশলার সুবাস রান্নায় এনে দেয় অনন্য মাত্রা। ধোঁয়া-ওঠা ভোগের সেই গন্ধে মিশে থাকে বহুদিনের স্মৃতি, মানুষের আন্তরিকতা আর মাতৃআরাধনার পবিত্র আবেশ। তাই নবমীর ভোগ শুধু আহার নয়—এ একসঙ্গে রান্না, পরিবেশন ও ভাগ করে নেওয়ার আনন্দ; মানুষের সঙ্গে মানুষের হৃদ্যতার এক চিরন্তন উৎসব।