North Bhwanipur Milan Sangha
Kharagpur, Paschim Medinipur
শিউলির সুবাস, আকাশজোড়া পেঁজা তুলোর মেঘ আর ঢাকের বাদ্যি—এই ত্রয়ীর মায়াবী আবাহনেই বাঙালির প্রাণের উৎসব দুর্গাপূজা। শারদোৎসবের অন্যতম পবিত্র অনুষঙ্গ মহাষ্টমীর অঞ্জলি এবং মায়ের ভোগপ্রসাদ। দেবীকে নিবেদিত এই ভোগ নিছক ধর্মীয় উপাচার নয়; বাঙালির সংস্কৃতি, সম্প্রীতি ও সম্মিলিত আনন্দের এক চিরন্তন প্রতীক।
খড়গপুর নর্থ ভবানীপুর মিলন সংঘ প্রতি মহাষ্টমীতে মাকে খিচুড়ি, লাবড়া, তরকারি, চাটনি ও পাঁপড়ের ভোগ নিবেদন করে। অঞ্জলির পর এলাকার সর্বস্তরের মানুষ একই পঙ্ক্তিতে বসে প্রসাদ গ্রহণ করেন—যেখানে ভেদাভেদ মুছে গিয়ে জেগে ওঠে সাম্য ও সৌহার্দ্যের অনাবিল আবহ। শাস্ত্রমতে, দেবীকে অন্নদা বা অন্নপূর্ণারূপে স্মরণ করেই নিবেদিত হয় এই অন্নভোগ; তাই মায়ের প্রসাদে যেন মিশে থাকে অমৃতের আস্বাদ।
বে আজকের পুজোর ভোগের বর্ণনা অসম্পূর্ন রয়ে যাবে যদি গতবছরের অনন্য অভিজ্ঞতার অনুভূতি এই স্বাদকাহনের মাধ্যমে ভাগ না করা হয় । প্রতি বাছের মতো গত বছরে ও ৮০০ থেকে ১০০০ জনের ভোগের আয়োজন করা হয় । কিন্তু, আচমকাই জনসমাগম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়। ফলে দ্বিতীয়বার নতুন করে ভোগ রান্নার আয়োজন করতে হয়েছিল। পরে জানা গেল, সানরাইজের গুঁড়োমশলায় প্রস্তুত ভোগের অনন্য স্বাদ ও সুবাস মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়েছিল আশপাশের এলাকায়। সেই স্বাদের টানেই বেড়েছিল মানুষের আগমন। প্রসাদ গ্রহণের পর সকলের পরিতৃপ্ত মুখ আমাদের কাছে হয়ে উঠেছিল মায়ের আশীর্বাদেরই এক স্বর্গীয় অনুভূতি।
সকলকে শারদোৎসবের আন্তরিক শুভেচ্ছা।