Amarabati Sarbojanin Durga Puja Committee
Durgapur, Paschim Bardhaman
কালো ভেলার মেঘ সরিয়ে নীল আকাশে শিউলি তলায় কাশফুলের সঙ্গেই শরৎ আসে। গলি থেকে রাজপথ, কলকাতা থেকে কাকদ্বীপ, দার্জিলিং থেকে দুর্গাপুর—সর্বত্র আজ আগমনী সুর। সেই রাঙা পায়ের পদধ্বনি শোনা গেছে দুর্গাপুরের অমরাবতীতেও। ১৯৭৮ সালে গুটিকয়েক মানুষের হাত ধরে শুরু হওয়া এই পুজো আজ ৪৯তম বর্ষে। সময়ের সঙ্গে আয়োজন বদলেছে, বেড়েছে জাঁকজমক ও গুণমান; বদলায়নি আন্তরিকতা ও পরম্পরা। মা এখানে ঘরের মেয়ে, তাই চারদিনের জন্য তাঁকে ঘরে পাওয়ার আনন্দে আপ্যায়নের আয়োজন হয় নানা ভোগে।
ষষ্ঠীর বোধনের পর সপ্তমী থেকে পাড়ার ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ের মহিলারা শুচিতার সঙ্গে নিবেদন করেন খিচুড়ি, পাঁচভাজা, নবরত্ন সবজি, চাটনি, মিষ্টি ও পরমান্ন। সন্ধ্যায় থাকে ঘিয়ে ভাজা লুচি ও সুজি। অষ্টমীতে খিচুড়ির বদলে পোলাও, পাঁচভাজা, লাবড়া, টমেটোর চাটনি ও নলেন গুড়ের পরমান্ন নিবেদন করা হয়। সন্ধিপুজোয় শতদীপ প্রজ্বলনের সঙ্গে বিশেষ ভোগে থাকে ফ্রাইড রাইস, খিচুড়ি, লুচি, নবরত্ন লাবড়া, চাটনি ও পরমান্ন। নবমীতে খিচুড়ি বা ফ্রাইড রাইসের সঙ্গে পাঁচভাজা, সবজি, চাটনি, মিষ্টান্ন ও পরমান্ন থাকে। প্রতিটি ভোগে ব্যবহৃত হয় নির্ভরযোগ্য সানরাইজ গুঁড়ো মসলা। নবমীর সন্ধ্যায় লুচি ও সুজি নিবেদনের মধ্য দিয়ে মাতৃবন্দনা শেষ হয়। উলুধ্বনি, শঙ্খধ্বনি ও ধুনুচি নৃত্যে শুরু হয় অপেক্ষা—আবার এক বছর পর মায়ের আগমনের।