Vivekananda Road Sarbojanin Durgotsab Committee
Burnpur, Paschim Bardhaman
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান—মা আসছেন। প্রকৃতির সাজোসাজো রবের সঙ্গে মনেও আনন্দের হিল্লোল। আদরের দুলালীকে ভালোবাসা, সোহাগ আর আহারে ভরিয়ে দেওয়ার এই উৎসবেই মল্লিকদের দেশের বাড়ির দুর্গাপুজো এবার ৯১তম বর্ষে।
ঠাকুরমা-শাশুড়ির বিয়ের পর তাঁর শাশুড়ি স্বপ্নাদেশ পেয়ে এই পুজোর সূচনা করেন। সেই থেকে বনেদি বাড়ির নিয়ম-নিষ্ঠায় চারবেলা ফল-মিষ্টি ও ভোগে চলে মাতৃআরাধনা। লক্ষ্মীর দিনে পুরোহিত রান্না করলেও মহাষ্টমীর ভোগ রাঁধেন বাড়ির গৃহিণীরাই। এবারও Sunrise পুজো মশলার সুবাসে তৈরি হয় লুচি, পায়েস, সুজি, নাড়ু, খিচুড়ি, পোলাও, লাবড়া, মোচার ঘণ্ট, পনিরের নিরামিষ কোর্মা থেকে আমিষ ভোগের মাছ-মাংসের নানা পদ। পুজো শেষে সকলে মাটিতে বসে শালপাতায় প্রসাদ গ্রহণ করেন।
এই আনন্দের মাঝেই মল্লিকের মনে পড়ে অকালে স্বামীহারা, আসন্নপ্রসবা মুক্তা শুক্লার কথা—বৈধব্যের কঠোর বিধানে যিনি উৎসব থেকে বঞ্চিত, গৃহবন্দি। মল্লিকের মনে প্রশ্ন জাগে—মা যদি সবার হন, তবে তাঁরই এক কন্যা কেন বঞ্চিত?
সবার অলক্ষ্যে মুক্তার ঘরের দিকে এগিয়ে যায় সাজানো ভোগের থালা। সেখানেই মৃন্ময়ীর আরাধনা পূর্ণতা পায় চিন্ময়ী মাতৃশক্তির মানবিক উপলব্ধিতে—যেখানে ভক্তির শ্রেষ্ঠ নৈবেদ্য হয়ে ওঠে সাম্য, মমতা ও মানুষের পাশে দাঁড়ানো।