Manasa Tala Barowari Mahila Samity
Santipur, Nadia
# শারদোৎসব ও ভোগের “স্বাদকাহন”: মিলন, সম্প্রীতি ও ভক্তির মহা-আয়োজন
**আয়োজনে:** প্রান্তিক পল্লী মহিলা কর্মীবৃন্দ পরিচালিত সার্বজনীন দুর্গাপূজা কমিটি
শারদোৎসব বাঙালির প্রাণের উৎসব; ভক্তি, মিলন ও সম্প্রীতির উজ্জ্বল প্রতীক।
আমাদের পূজার আচার-অনুষ্ঠানে ভোগ নিবেদন ও প্রসাদ গ্রহণ এক অনন্য আকর্ষণ। ষষ্ঠী থেকে দশমী, প্রতিদিনের নিবেদনে মিশে থাকে বাঙালির রন্ধনঐতিহ্য ও স্বাদের বৈচিত্র্য।
**ষষ্ঠীতে** — বোধন ও অধিবাসের পর শীতল ভোগ: নাড়ু, মোয়া, মুড়কি, ফল ও মিষ্টি।
**সপ্তমীতে** — লুচি, ছোলার ডাল ও সুজির হালুয়া।
**অষ্টমীতে** — গোবিন্দভোগ চালের খিচুড়ি, লাবড়া, বাঁধাকপির ঘণ্ট, চাটনি ও পায়েস।
**নবমীতে** — সাদা ভাত, পাঁচ রকমের ভাজা, ডাল, নবরত্ন তরকারি, বাসন্তী পোলাও, ছানার ডালনা, পনির, চাটনি, পায়েস ও মিষ্টি।
**দশমীতে** — রীতি মেনে পান্তাভাত ও কচুর শাক নিবেদন করে উমাকে বিদায় জানানো হয়।
শরতের এই কদিন উমা যেন বাংলার ঘরে ঘরে ফিরে আসা আদরের মেয়ে। পাড়ার মা-কাকিমারা ভোর থেকেই কন্যাসম উমার জন্য রান্নার প্রস্তুতি নেন। তাঁদের বাৎসল্যস্নেহ ও ভক্তির পরশে প্রতিটি পদ হয়ে ওঠে মমতাময় নিবেদন। কেউ অর্থ, কেউ উপকরণ, কেউ শ্রম দিয়ে এই আয়োজনে শামিল হন। সামর্থ্য ভিন্ন হলেও সকলের আন্তরিক সহযোগিতায় পূর্ণতা পায় ভোগের আয়োজন। পূজা শেষে জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও ধনী-দরিদ্রের ভেদ ভুলে ছোট-বড় সকলে একসঙ্গে প্রসাদ গ্রহণ করেন।
এই ভোগ ভালোবাসা, সহযোগিতা, সাম্য ও সামাজিক সম্প্রীতির স্নিগ্ধ প্রতিচ্ছবি—আমাদের পূজার আপন “স্বাদকাহন”।