Ichapur Paschimpara Baroari
Koruigachi, Nadia
মহাষ্টমীর সকাল। ঢাকের ছন্দে মুখর গোটা পাড়া। অঞ্জলি শেষ হতেই মণ্ডপের পিছন থেকে ভেসে আসে ভোগের মনকাড়া সুবাস। বড় হাঁড়িতে টগবগ করে ফুটছে খিচুড়ি; পাশে লাবড়া, বেগুনভাজা, চাটনি আর পায়েস। হাতে শালপাতার থালা নিয়ে প্রসাদের অপেক্ষায় সারিবদ্ধ সকলেই।
হঠাৎ চোখে পড়ল, একটু দূরে দাঁড়িয়ে এক ছোট্ট মেয়ে তার মাকে নিষ্পাপ কৌতূহলে জিজ্ঞেস করছে, “মা, দুগ্গা ঠাকুরও কি আমাদের মতো খিচুড়ি খান?”
মা সস্নেহে হেসে বললেন, “হ্যাঁ রে মা, ঠাকুরই তো আগে খান। তারপর সেই খাবারই ভোগ হয়ে আমাদের কাছে আসে—তাই তার এত স্বাদ।”
কথাটা শুনে মেয়েটি বিস্ময়ভরা চোখে প্রতিমার দিকে তাকিয়ে দু’হাত জোড় করল। সেই সরল দৃশ্যটুকু যেন মুহূর্তেই বুঝিয়ে দিল ভোগের গভীর অর্থ।
মায়ের ভোগ নিছক আহার নয়—এ আশীর্বাদমাখা মহাপ্রসাদ, মানুষের বিশ্বাসের প্রতিভূ , জীবন দর্শনের দৃষ্টি ভঙ্গি । পরিচয়ের সমস্ত ব্যবধান এই ভোগ মিলিয়ে দেয় এক অনাবিল সরলতায় | মায়ের ভোগ যেন এক মহামিলনের অভিজ্ঞান আর তার প্রস্তুক কারক, সহযোগী সকলেই যেন এক মহাযজ্ঞের ব্রতী ।