Sarba Mangala Tola Baroari
Debagram, Nadia
দীর্ঘ ৯৮ বছর ধরে সর্বমঙ্গলতলা সার্বজনীন দুর্গোৎসব বহন করে চলেছে নিজস্ব আচার, নিষ্ঠা ও ঐতিহ্যের এক অনন্য উত্তরাধিকার। নিয়মবিধি মেনে মাতৃআরাধনার পাশাপাশি ভোগ নিবেদনেও রয়েছে স্বতন্ত্র রীতি। তিনজনের হাতে মূল রান্নার দায়িত্ব, তাঁদের সহযোগিতায় থাকেন আরও দু’জন ও অবশ্যই Sunrise এর মসলা । সকলের অক্লান্ত শ্রমেই সম্পন্ন হয় এই পবিত্র আয়োজন।
দুপুরে মায়ের মাটির সরাতে বিতরণ করা হয় ভোগে | থাকে সুগন্ধি গোবিন্দভোগ চালের খিচুড়ি, রকমারি ভাজা, তরকারি, পায়েস ও ফলপ্রসাদ; রাতে নিবেদিত হয় লুচিভোগ। সন্ধ্যাপূজার ভোগও পরে ভক্তদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। তিন দিনের সমস্ত ভোগ রান্না হয় শুধুমাত্র গঙ্গাজলে এবং ব্যবহৃত বাসনপত্র থাকে মন্দিরের নিজস্ব তত্ত্বাবধানে।
একসময় বাড়ি বাড়ি প্রসাদ পৌঁছে দেওয়া হলেও লোকবলের অভাবে এখন চালু হয়েছে কুপন ব্যবস্থা। বাড়িতে কুপন পৌঁছে দেওয়া হয়, আর ভক্তরা মণ্ডপ থেকে প্রসাদ সংগ্রহ করেন। প্লাস্টিক নয়—মাটির সরায়, সর্বমঙ্গলতলার নামাঙ্কিত কাগজে ঢাকা দিয়েই প্রসাদ পরিবেশিত হয়। বহু মানুষ এই মহাপ্রসাদ গ্রহণ করেই উপবাস ভঙ্গ করেন।
এই ভোগ তাই নিছক নৈবেদ্য নয়—এ সর্বমঙ্গলতলার শুদ্ধাচার, ভক্তি ও পরম্পরার জীবন্ত পরিচয়। ২০২৮ সালে শতবর্ষে পদার্পণের প্রাক্কালে এই ঐতিহ্য আরও সমুজ্জ্বল হয়ে উঠুক—এই আমাদের আন্তরিক প্রার্থনা।