Bishnupur Baroari
Bhaluka, Nadia
'বাঙালী' মানেই বারো মাসে তেরো পার্বণ।আর এই তেরো পার্বণের মধ্যে শ্রেষ্ঠ পার্বণ হলো দূর্গাপূজা।
শরতের আকাশে পেঁজা পেঁজা তুলোর মতো মেঘ, চারিদিকের কাশফুল, ভোরের শিশির ভেজা ঘাস আর শিউলি ফুলের গন্ধ বার্তা দেয় 'মা' আসছেন।
একবছর পর 'মা' আবার মৃণ্ময়ী রূপ থেকে চিন্ময়ী হয়ে মর্তে আগমণ করেন।প্রতিটি বাঙালী মনই মেতে ওঠে আনন্দে,চলে নানান আয়োজন। বছর পরে 'মেয়ে কে' বরণ করতে বাঙালী কোনো খামতিই রাখতে নারাজ ! তাই খাদ্যরসিক বাঙালি, ঘরের মেয়েকে পঞ্চব্যঞ্জন রান্না করে খাওয়ানোর প্রস্তুতি নেয় পূর্ণমাত্রায় । সপ্তমী থেকে দশমী পর্যন্ত নানারকমের পদ থাকে ভোগের তালিকায়। খিচুড়ি,পাঁচরকম ভাজা, লাবড়া, পনিরের তরকারি, পোলাও, আলুর দম,লুচি,সুজি,পরমান্ন-প্রায় সবরকমের খাবারই থাকে ভোগের তালিকায় আর Sunrise মাসালার ছোঁয়ায় যেন তার ষোলো কলা পূর্ণ হয় ।। পুজোর দিনগুলিতে সকাল থেকে চলে তার আড়ম্বর । ঘরের মেয়ে ও তাঁর সন্তানদের নিজের হাতে রেঁধে খাওয়ানোর এই আনন্দ ভাষায় ধরা সত্যিই কঠিন।
মায়ের আহার শেষে সকলে যখন একসঙ্গে সেই মহাপ্রসাদ গ্রহণ করি , তার স্বাদ-সুবাস যেন অমৃতসম। বিশ্বাস জাগে—মা পরম তৃপ্তিতে ভোগ গ্রহণ করেছেন।
অবশেষে দশমীর সকালে পান্তাভাত, শাপলা ও কচুশাক নিবেদনের মুহূর্তে আনন্দে নামে বিষাদের ছায়া। উমা ফিরে যাবেন স্বামীর ঘরে—আবার এক বছরের প্রতীক্ষা। উৎসব ফুরোয়, কিন্তু হৃদয়ে থেকে যায় ভোগের অমলিন স্বাদ, উমার স্নেহময় স্মৃতি আর তাঁর পুনরাগমনের আকুল অপেক্ষা।