Haranath Para Baroary Puja Committee
Aranghata, Nadia
ধূপের গন্ধ, ঢাকের বাদ্য, কাশের দোলা আর শিউলির সুবাসের সঙ্গে যখন মিশে যায় ভোগের খিচুড়ির উষ্ণ ঘ্রাণ, তখনই যেন পূর্ণতা পায় বাঙালির শারদোৎসব। বছরান্তে উমা ফেরেন ঘরের মেয়ে হয়ে; তাই হরনাথপাড়া বারোয়ারির ভোগের থালায় স্নেহভরে সাজানো হয় খিচুড়ি, তরকারি, পাঁচভাজা, পায়েস, চাটনি, লুচি, সুজি, মিষ্টি, ফল, খই, মুড়কি, নাড়ু ও মোয়া।
গুরুপাকের পর মায়ের শীতলের আয়োজনে থাকে ক্ষীর, ডাব, পান ও আমলকি। দশমীতে নিবেদিত হয় পান্তাপ্রসাদ। লোকবিশ্বাসে, দীর্ঘ যাত্রাপথে মেয়ের যেন কষ্ট না হয়, তাই বিদায়ের আগে দেওয়া হয় হালকা আহার। উমার চলে যাওয়ার বিষাদে ঘরে পালিত হয় অরন্ধন; টিমটিমে প্রদীপের শিখা তবু আশ্বাস দেয়—আসছে বছর মা আবার ফিরবেন।
এই ভোগের নেপথ্যে থাকে অসংখ্য মানুষের নীরব স্বেচ্ছাশ্রম। কেউ বাজারের হিসাব রাখেন, কেউ সবজি সংগ্রহ করেন, কেউ রান্নার স্থান পরিষ্কার করেন, আবার কেউ নিজের ঘরের বাসন ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী এনে দেন।
তাই হরনাথপাড়া বারোয়ারির ভোগ কেবল দেবীর অন্ন নয়—এ আমাদের সংস্কৃতির স্বাদ, রান্নাঘরের উষ্ণতা, সম্মিলিত শ্রম, পাড়ার মিলন, উৎসবের আনন্দ এবং বিদায়ের বিষণ্ণতায় বোনা এক চিরন্তন শারদকথা।