Nabghara Sarbojanin Durgutsab
Sankrail, Howrah
নাবঘড়া গ্রামের দুর্গাপূজার ভোগ বিতরণ — একতার এক সুন্দর গল্প
শারদীয়ার শুভ দিনে নাবঘড়া গ্রামের দুর্গাপূজা মণ্ডপে উৎসবের আমেজ। ঢাকের বাদ্য, ধূপের গন্ধ আর আরতির আলোয় চারদিক ভরে ওঠে ভক্তি ও আনন্দে।
পূজা শেষ হতেই শুরু হয় ভোগ বিতরণ। মায়ের উদ্দেশ্যে নিবেদিত খিচুড়ি, ভাজা, তরকারি, পায়েস, মিষ্টি ও নানা প্রসাদ সাজিয়ে রাখা হয়।
শিশু থেকে প্রবীণ—সকলেই আসেন মায়ের প্রসাদ গ্রহণ করতে। ভোগ পরিবেশনে এগিয়ে আসেন গ্রামের যুবক-যুবতী, স্বেচ্ছাসেবক ও পূজা কমিটির সদস্যরা। কেউ খাবার পরিবেশন করেন, কেউ জল দেন, কেউ বয়স্কদের বসার ব্যবস্থা করেন। পরিচিত-অপরিচিতের ভেদাভেদ ভুলে সবাই যেন একই পরিবারের সদস্য হয়ে ওঠেন।
মণ্ডপের সামনে দীর্ঘ সারি। হাসি-আনন্দ, শিশুদের দুষ্টুমি, প্রবীণদের মুখে পুরনো দিনের পুজোর স্মৃতি। এক প্রবীণ গ্রামবাসী হেসে বলেন, “এই ভোগের আসল স্বাদ খাবারে নয়, সবাইকে একসঙ্গে বসিয়ে খাওয়ানোর আনন্দে।”
সত্যিই, নাবঘড়ার এই ভোগ বিতরণ প্রমাণ করে—ধর্ম, বয়স, পরিচয় বা আর্থিক অবস্থার পার্থক্য ভুলে মানুষ যখন একসঙ্গে দাঁড়ায়, তখনই উৎসব পূর্ণতা পায়।
শেষ পাতে পায়েস ও মিষ্টি পরিবেশনের সময় শিশুদের মুখে হাসি, বড়দের চোখে তৃপ্তি। মণ্ডপজুড়ে ধ্বনিত হয়, “জয় মা দুর্গা!”
এই ভোগ শুধু ধর্মীয় আয়োজন নয়; এটি ভালোবাসা, সম্প্রীতি, মানবতা ও গ্রামের মানুষের মিলন উৎসব। মায়ের আশীর্বাদে নাবঘড়ার প্রতিটি ঘর সুখে ভরে উঠুক—এই প্রার্থনাই থাকুক মায়ের চরণে।