Ranihati Sarbojanin Durgutsab
Ranihati, Howrah
দনুজ দলনী দেবী দুর্গার আরাধনায় মত্ত বাঙালির রসনাবিলাসের পরিপূর্ণতা আসে মায়ের ভোগপ্রসাদ আস্বাদনের মাধ্যমে। তিথির উপাচার ও রীতিনীতি অঞ্চলভেদে বৈচিত্র্যময়। নিরামিষ রান্নাঘরে পবিত্রতার সঙ্গে নানান ব্যঞ্জনে সাজানো হয় মায়ের নৈবেদ্য। পূজান্তে আপামর বঙ্গবাসী সেই অমৃততুল্য ভোগ তৃপ্তিভরে গ্রহণ করেন। বনেদি বাড়ির পুজো বা বারোয়ারি পুজোয় মহাষ্টমীর খিচুড়ির সঙ্গে লাবড়ার মেলবন্ধন চিরাচরিত। ভোগপাতে দু-এক রকম তরকারিও স্বাদে আনে প্রশান্তি। নবমীর ভোগে অনেক স্থানে আমিষের প্রচলন রয়েছে। জোড়া ইলিশ অথবা পাঁঠার বলির চল হৃদয়বিদারক হলেও এখনও কোথাও কোথাও দেখা যায়। দশমীর দধিকর্মা এবং ফলারের ভোগও বেশ জনপ্রিয়। বিজয়ার মিষ্টিমুখে আজও মা-দিদিদের হাতে তৈরি নানা রকম নাড়ুর জয়জয়কার। এই ভোগ শুধু রসনাতৃপ্তি নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাঙালির ধর্মীয় বিশ্বাস, পারিবারিক ঐতিহ্য, আঞ্চলিক রীতি ও উৎসবের স্মৃতি। তাই পুজোর ভোগের প্রতিটি পদেই মিশে থাকে ভক্তি, ভালোবাসা, আনন্দ ও বাঙালিয়ানার স্বাদ। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই ভোগের রীতি বাঙালির উৎসবজীবনের সঙ্গে মিশে রয়েছে। কোথাও থাকে পঞ্চব্যঞ্জন, কোথাও পোলাও, লুচি, পায়েস কিংবা চাটনি। প্রতিটি পদেই থাকে শুদ্ধতা ও নিবেদনের আন্তরিকতা। আর মায়ের আশীর্বাদের অনুভূতি।