Gourango Natta Samaj Club
Balitikuri, Howrah
গৌরাঙ্গ নাট্য সমাজ পরিচালিত বালিটিকুরী দক্ষিণ-পূর্ব চাকপাড়া সার্বজনীন দুর্গোৎসব আজ গর্বের ৩৬তম বর্ষে পদার্পণ করেছে। পুজোকে কেন্দ্র করে রঙিন আলো, ফুল ও আলোকসজ্জায় সেজে ওঠা মণ্ডপ প্রাঙ্গণ পাড়ার মানুষ আর অগণিত দর্শনার্থীদের ভিড়ে যেন এক মহামিলন ক্ষেত্র।
এই পুজোর অন্যতম আকর্ষণ হলো মহাষ্টমীর আবেগঘন পুষ্পাঞ্জলি। সকল এলাকাবাসীর পাশাপাশি বহু দর্শনার্থীও এই পুষ্পাঞ্জলিতে অংশ নেন। আর সন্ধ্যায় ১০৮ প্রদীপের মায়াবী আলোয় হয় সন্ধিপূজা। পুজো শেষে শুরু হয় অষ্টমীর বিশেষ ভোগ—গরম লুচি, আলু ভাজা, বেগুন ভাজা, আলুর দম ও সুজি বিতরণ। নবমীর সকালটা শুরু হয় সংঘের ঐতিহ্যবাহী, নজরকাড়া কুমারী পুজো দিয়ে। এই পুণ্যলগ্নে মায়ের প্রসাদে থাকে গোবিন্দভোগ চালের খিচুড়ি, পাঁচমিশালি লাবড়া ও বেগুনী। নবমীর সন্ধ্যায় আরতির ঢাকের আওয়াজ আর ধুনুচি নাচের উন্মাদনার পর দর্শনার্থীদের বাসন্তী পোলাও ও আলুর দম বিতরণ করা হয়।
বাকি দিনগুলোতেও আনন্দের কমতি নেই। ষষ্ঠীর সন্ধ্যায় বোধনের পর মেলে গরম খিচুড়ি ও বোঁদে। সপ্তমীর রাতে মন জুড়ায় ঘন দুধে তৈরি পায়েস ও মিষ্টিতে। পুজোর দিনগুলি সারা মণ্ডপ ঢাকের শব্দে, ধূপ-ধুনোর গন্ধে আর মানুষের হইচইয়ে মুখরিত থাকে। পথচলতি মানুষ এবং আগত দর্শনার্থীরা তৃপ্তি করে মায়ের ভোগ গ্রহণ করেন। অবশেষে আসে বিজয়া দশমীর সেই বিষণ্ণ ক্ষণ। মায়ের বিদায়বেলায় অশ্রুসজল চোখে সবাই মুখে তোলে ঐতিহ্যবাহী দধিকর্মা, ছানার মিষ্টি ও খাজা।
ষষ্ঠী থেকে দশমী—এই নিরামিষ মহাপ্রসাদ বিতরণ শুধু আহার নয়, এ যেন মায়ের আশীর্বাদ। চাকপাড়ার ৩৬ বছরের এই পুজো আজ এক বিশাল পরিবারের উৎসব, যা সবার মনে ভালোবাসার অক্ষয় স্মৃতি রেখে যায়।