Agrani Sanga Club
Siliguri, Darjeeling
১৯৫৮ সালে সূচিত ভক্তিনগর অগ্রণী সংঘের দুর্গাপুজো এ বছর পদার্পণ করেছে গৌরবময় ৬৯তম বর্ষে। অগ্রজদের হাতে নিতান্ত সাদামাটা আয়োজনে যে মাতৃআরাধনার সূচনা হয়েছিল, সময়ের প্রবাহে আজ তা পরিণত হয়েছে আড়ম্বরপূর্ণ এক সার্বজনীন মহোৎসবে।
এই পুজোর প্রাণস্পন্দন, মহাষ্টমীতে স্থানীয় মহিলাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। সকাল থেকেই স্নান সেরে, নতুন বস্ত্রে, শুদ্ধচিত্তে তাঁরা সমবেত হন মণ্ডপপ্রাঙ্গণে। ফল কাটা, পুষ্পপত্র সাজানো থেকে হোমের আয়োজন—সবেতেই থাকে তাঁদের আন্তরিক স্পর্শ। পূজান্তে ভক্তিভরে প্রায় ১০–১২ দফায় অনুষ্ঠিত পুষ্পাঞ্জলিতে অংশ নেন অসংখ্য মানুষ।
মহাষ্টমীর আরেক অনন্য আকর্ষণ ভোগের পঙ্ক্তিভোজন। আশির দশকের শুরু থেকেই দর্শনার্থীদের বসিয়ে প্রসাদ খাওয়ানোর যে রীতি চালু হয়েছিল, আজও তা সযত্নে বহমান। একসময় বর্তমান সেন্ট্রাল ব্যাংকের পাশের গলিতে পঙ্ক্তিভোজ হতো; বর্তমানে ক্লাবের নিজস্ব ময়দানেই হয় এই সুবিশাল আয়োজন। অষ্টমীর ভোগের সংযোজনে থাকে , খিচুড়ি, পাঁচমিশালি তরকারি, টক -ঝাল চাটনি, পায়েস ও শেষ পাতে মিষ্টি। Sunrise এ রাঁধা ব্যাঞ্জন চিন্ময়ী ও মৃন্ময়ী মায়ের অকৃত্তিম স্নেহের স্পর্শে হয়ে ওঠে অনন্যসাধারণ ।পরিবেশনের দায়িত্বও সানন্দে সামলান সেই মায়েরাই| তাঁদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যোগ দেন এলাকার সর্বস্তরের মানুষ |
পুজোর পরিধি যত বেড়েছে, বেড়েছে আয়োজনও। শুধু যা বদলায়নি তা হল এই মায়েদের স্নেহ আর Sunrise স্বাদ । এই মহাযজ্ঞের নেপথ্যশক্তি আজও এলাকার নারীরাই। তাঁদের নিষ্ঠা, শ্রম ও ভালোবাসাই অগ্রণী সংঘের দুর্গোৎসবকে দিয়েছে পূর্ণতা—তাঁদের প্রতি আমাদের আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।