Chandika Shristi
Gangarampur, Dakshin Dinajpur
ভবময়ীর স্বাদ-ভোগের আয়োজনে
আমাদের মাতৃ আরাধনায় প্রচলিত গতানুগতিক নিয়মের বাইরেও মায়ের ভোগের পসরায় কিছু বিশেষ রীতি লক্ষ্য করা যায়। কিছু উপকরণ না থাকলেও কীভাবে ভোগের আয়োজন করা যায়, তারই বিশেষ উদাহরণ রয়েছে আমাদের পরম্পরায়।
যেমন, দধিমঙ্গলে দই, খই ছাড়াও মিছরি ও অন্যান্য উপকরণ নিবেদনের রীতি রয়েছে। ষষ্ঠীতে মা ঘরে ওঠার পর শাক, ফল ও মিষ্টির ভোগ দেওয়া হয়। সপ্তমী থেকে আমাদের মন্দিরে ফল, মিষ্টি, নাড়ু, মুড়কি সহ বিভিন্ন ভোগ নিবেদনের নিয়ম চলে আসছে। এই বিশেষ রীতিগুলি আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের—সার জেঠু, বিনয় কাকুদের সময় থেকেই দেখে আসছি।
সপ্তমীতে মায়ের অন্নভোগে ১২ ব্যঞ্জনের পসরা সাজানো হয়। সপ্তমী থেকে দশমী পর্যন্ত পুজো কমিটির নির্বাচিত ব্যক্তি মায়ের ভোগ নিবেদন করেন। মহাষ্টমীতে মায়ের অন্নভোগে ১৯ ব্যঞ্জনের পসরা দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। মহানবমীতেও বিশেষ ভোগের আয়োজন হয়। দশমীতে মায়ের অন্নভোগে বিশেষ পদ্ধতিতে পান্তা ভাত ও শাপলা ফুলের ভাজি দেওয়া হয়।
এই চারদিন মন্দির প্রাঙ্গণে আগত সকলকে মায়ের প্রসাদ বিতরণ করা হয়। মহাষ্টমী ও মহানবমীতে আগত অতিথিসহ সকলকে দুপুর ও রাতে মায়ের প্রসাদ বসিয়ে খাওয়ানো হয়। এই দুই দিন পাড়ার মানুষও মায়ের প্রসাদ গ্রহণ করেন, তাই কারও বাড়িতে রান্না হয় না। পাড়ার সকলে একসঙ্গে মন্দির প্রাঙ্গণে মিলিত হয়ে মহানন্দে শারদ উৎসব পালন করেন।