SHIVBARI DURGA PUJA COMMITTEE
SILCHAR, CACHAR
অষ্টমীর দুপুর। শিববাড়ির পূজামণ্ডপ তখন মানুষের ভিড়ে মুখর। ঢাকের তাল, শঙ্খধ্বনি আর ধুনুচির ধোঁয়ার সঙ্গে মিশে আছে রান্না হওয়া ভোগের গন্ধ।
বড় বড় কাঁসার বাসনে রাখা সাদা ভাত, গোবিন্দভোগ চালের পোলাও, ঘি-দেওয়া সোনা মুগের ডাল, আলু-ফুলকপির তরকারি, ছানার ডালনা, বেগুন ভাজা, কুমড়োর ভাজা, পাপড়, টমেটোর চাটনি, পায়েস আর মিষ্টি। একের পর এক ভোগের হাঁড়ি মাকে নিবেদনের জন্য এগিয়ে আসে।
পুজো শেষ হতেই মণ্ডপের চেহারা বদলে যায়। আরতির ভিড়ের জায়গায় তৈরি হয় সারি সারি মানুষ। কারও হাতে শালপাতার থালা, কারও হাতে ছোট্ট বাটি। স্বেচ্ছাসেবকেরা ব্যস্ত হয়ে পড়েন পরিবেশনে।
হাসি, থালার টুংটাং শব্দ, শিশুদের কৌতূহলী চোখ আর পরিবেশনের ব্যস্ততায় প্রসাদ বিতরণও যেন এক উৎসবে পরিণত হয়। কেউ ধীরে ধীরে খান, কেউ পায়েসের শেষ চামচটুকুও যত্ন করে তুলে নেন।
কিছুক্ষণ পর ভিড় কমে আসে। মায়ের সামনে প্রদীপটি তখনও জ্বলছে। বাতাসে মিশে থাকে পায়েসের মিষ্টি গন্ধ, ধূপের সুবাস আর ভোগের উষ্ণতা।
দুর্গামায়ের প্রসাদের আসল সৌন্দর্য শুধু স্বাদে নয়। অপরিচিত মানুষও যখন একই সারিতে বসে খান, তখনই উৎসব সত্যিকারের অর্থে হয়ে ওঠে আপন।
শিববাড়ির ভোগ তাই শুধু প্রসাদ নয়—এ যেন বাঙালির মিলন, ঐতিহ্য ও আনন্দের এক সুন্দর ছবি।