Lambodarpur Sarbojanin Durga Puja
Suri, Birbhum
লম্বোদরপুরের দুর্গাপুজোর ভোগ: ভক্তি, ঐতিহ্য ও সর্বজনীনতার স্বাদ
পুজোর ভোগ শুধু নিবেদিত খাবার নয়; এটি বাঙালির উৎসবের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকলের মধ্যে দুর্গাপুজোর ভোগ ভাগ করে নেওয়াই হোলো আসল সৌন্দর্য।
শহরের কোলাহল ছাড়িয়ে সিউড়ির লম্বোদরপুর গ্রামের দিকে পা বাড়ালেই অনুভব করা যায় পুজোর সেই খাঁটি আবহ। গ্রামের মন্দিরে প্রতি বছর নবমীর দিন ভোগের আয়োজন করা হয়। অষ্টমীর সন্ধ্যা থেকেই মণ্ডপের পেছনের ভোগমন্দিরে শুরু হয়ে যায় প্রস্তুতি। কোনো পেশাদার রাঁধুনির পরিবর্তে গ্রামের মানুষজন মিলেই এই ভোগ তৈরি করেন। মহিলারা সবজি কাটেন, আর পুরুষরা বাকি প্রয়োজনীয় জোগাড়ের দায়িত্ব নেন।
নবমীর সকাল থেকে শুরু হয় ভোগ রান্না। দুপুরে নবমীর হোমের পর শুরু হয় প্রসাদ বিতরণ। কমিটির সদস্যরাই ভোগ পরিবেশন করেন। মণ্ডপের পাশের ফাঁকা জায়গায় ত্রিপল টাঙিয়ে বসে প্রসাদ খাওয়ানোর ব্যবস্থা করা হয়। শালপাতার থালায় পরিবেশন করা হয় গরম খিচুড়ি, লাবড়া, বেগুনি, টমেটোর চাটনি ও পায়েস। পাশাপাশি মণ্ডপে আগত দর্শনার্থীদের জন্য শালপাতায় প্রসাদ দেওয়ার ব্যবস্থাও থাকে।
এই ভোগের আসল সৌন্দর্য তার সর্বজনীনতায়। পুজোর দিনগুলিতে ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান যেন মুছে যায়। ঘরের মা যেমন ভালোবেসে সন্তানকে খাওয়ান, তেমনই পুজোর মণ্ডপে দেবী দুর্গাও যেন অন্নপূর্ণা রূপে সকলকে তৃপ্ত করেন। খিচুড়ির সেই সাধারণ স্বাদও তখন মানুষের আন্তরিকতা, ভালোবাসা ও ভক্তির ছোঁয়ায় হয়ে ওঠে অমৃতসম।