Bhora Sarbojanin Durgatsob
Bhora, Bankura
ভড়া কদমতলা সার্বজনীন দুর্গোৎসবের ভোগ নিবেদন
বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর মহকুমার জঙ্গলঘেরা গ্রাম ভড়ায় একসময় দুর্গাপুজো সীমাবদ্ধ ছিল মণ্ডল জমিদারদের দালানে। নিচু জাতির মানুষের সেখানে প্রবেশ ছিল নিষিদ্ধ। সেই বৈষম্য ভাঙতেই ৩৩ বছর আগে কদমতলায় স্বর্গীয় কাশীরাম দাস, মাধব মণ্ডল ও বংশী বদন পালের উদ্যোগে শুরু হয় “ভড়া কদমতলা সার্বজনীন দুর্গোৎসব”।
এই পুজোর মূল মন্ত্র—“সবাই মিলে, সবার পুজো”। তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ এই পুজোর ভোগ।
মহালয়ার পর থেকেই ভোগের চাল, ডাল সংগ্রহ শুরু হয়। ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে প্রতিটি বাড়ি থেকে যে যা পারে—এক মুঠো আতপ চাল, একটি আলু—তাই দিয়েই তৈরি হয় ভোগ। কোনো বাধ্যতামূলক চাঁদা নেই; সবটাই মায়ের প্রতি ভালোবাসার দান।
অষ্টমী ও নবমীতে সাত্ত্বিকভাবে রান্না হয় খিচুড়ি, বেগুন ভাজা, পাঁচমিশালি সবজি, চাটনি ও পায়েস। গ্রামের মা-বোনেরা পালা করে একসঙ্গে রান্না করেন। বেশিরভাগ রান্নাই হয় মাটির উনুনে, কাঠের জ্বালে।
দুপুরে মন্ত্রোচ্চারণে মায়ের সামনে ভোগ নিবেদন করা হয়। সেই সময় ঢাকের বাদ্য থেমে চারিদিক নিস্তব্ধ হয়ে ওঠে—বিশ্বাস, স্বয়ং মা অন্নপূর্ণা রূপে ভোগ গ্রহণ করেন।
এরপর শুরু হয় ভোগ বিতরণ। একসময় যাদের জমিদারদের দালানে প্রবেশ নিষেধ ছিল, আজ তারাই ভেদাভেদ ভুলে একই সারিতে বসে প্রসাদ গ্রহণ করেন। প্রতিদিন প্রায় ১০০০–১৫০০ মানুষ ভোগ খান। এই ভোগ শুধু প্রসাদ নয়, ভড়া গ্রামের ৩৪ বছরের সাম্য, সম্প্রীতি ও ঐক্যের প্রতীক—যেখানে মা দুর্গা আজ সবার মা।